আলেমদের গালি দিলে স্ত্রী তালাক
আলেমদের গালি দিলে স্ত্রী তালাক
السَّلاَمْ عليكم وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُه
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
الحمد لاهله والصلوة لاهلها اما بعد
প্রথম কথা হচ্ছে গালি গালাজ করা একটি অত্যন্ত খারাপ ও নিন্দনীয় কাজ। আলেম হোক কিংবা গায়রে আলেম যে কাউকেই গালি দেওয়া নাজায়েয এবং ফাসেকী কাজ।
একজন আলেম কে দুই কারণে গালি দিতে পারেঃ ১। ব্যক্তিগত কারণে ২। আলেম হওয়ার কারণে
কেউ যদি ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কোন আলেমকে গালি দেয়, এতে কুফরী হবে না কিন্তু মারাত্মক গোনাহ হবে। এটাকে ফাসেকি বলা হয়।
কিন্তু কেউ যদি কোন আলেমকে শুধু আলেম হওয়া কারণে তাকে গালি দেয় এবং তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে। তাহলে এতে তার কুফরী হবে এই ক্ষেত্রে তার ঈমান ও বিবাহ দুটিই নবায়ন করতে হবে।
কারণ, ইলম আল্লাহর গুণ। সেই ইলমের অধিকারী উলামাকে ইলমের কারণে ঘৃণা করা, তাকে গালি দেয়া, পরোক্ষভাবে আল্লাহকেই গালি দেয়া, তাই এটি ঘোরতর বিষয়।
উক্ত ব্যক্তি যদি তওবা না করে তাহলে তার ঈমানের সাথে মৃত্যু হবে কিনা প্রবল সন্দেহ আছে। আর ঈমানের সাথে মৃত্যু না হলে তার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যাবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِن الْخَاسِرِينَ
১.অর্থ: যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফরী করে তার সকল আমল বাতিল হয়ে যায়। আর সে আখেরাতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা মায়েদা: আয়াত নং ৫)
اِنَّ اللّٰهَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَ الۡاِحۡسَانِ وَ اِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَ یَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡکَرِ وَ الۡبَغۡیِ
২.অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণতা, সদাচার ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি আশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন। (সূরা নাহাল: আয়াত নং ৯০)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم” سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ
৩.অর্থ: আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬০৪৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৪ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيَبْغَضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ
৪.অর্থ: আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন। (সুনানে তিরমিযী হাদীস নং ২০০৮ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৫০৮১ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ،أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا
৫.অর্থ: উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সেই ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। যে আমাদের বড়দের (মুরুব্বিগণের) শ্রদ্ধা করে না, ছোটদের স্নেহ বা সহানুভূতি প্রদর্শন করে না এবং আমাদের আলেমগণের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে না। (মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২২৭৫৫ হাদীসের মানঃ হাসান)
নিচে কয়েকটি ফতোয়ার রেফারেন্স দেওয়া হলো।
مَنْ أَبْغَضَ عَالِمًا مِنْ غَيْرِ سَبَبٍ ظَاهِرٍ خِيفَ عَلَيْهِ الْكُفْرُ، إذَا قَالَ لِرَجُلٍ مُصْلِحٍ: ديدا روى نَزِدْ مِنْ جنان است كه ديدار خوك يُخَافُ عَلَيْهِ الْكُفْرُ كَذَا فِي الْخُلَاصَةِ.
وَيُخَافُ عَلَيْهِ الْكُفْرُ إذَا شَتَمَ عَالِمًا، أَوْ فَقِيهًا مِنْ غَيْرِ سَبَبٍ، وَيَكْفُرُ بِقَوْلِهِ لِعَالِمٍ ذَكَرُ الْحِمَارِ فِي اسْتِ عِلْمِك يُرِيدُ عِلْمَ الدِّينِ كَذَا فِي الْبَحْرِ الرَّائِقِ (الفتاوى الهندية، كتاب السير، الباب التاسع فى احكام المرتدين-2/270، تاتارخانية-5/508)
وفى البزازية: فالاستخفاف بالعلماء لكونهم علماء استخفاف بالعلم والعلم صفة الله تعالى منحة فضلا على خيار عباده ليدلوا خلقه على شريعته نيابة عن رسله فاستخفاف بهذا يعلم انه الى من يعود، (الفتاوى البزازية على هامش الهندية-6/336، مجمع الانهر-2/509
والله اعلم بالصواب


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন